দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জাতীয় চাহিদার সঙ্গে ব্যবধান এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমানে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে দেশের মোট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ১৭৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

সাম্প্রতিক সময়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানি বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে গ্যাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এখনো অতিরিক্ত গ্যাসের প্রয়োজন রয়েছে।

শিল্পখাতে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোতে কম চাপের সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের চাহিদা পূরণে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিকৃত LNG জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় যুক্ত করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপরও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে।

সরকার ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এই ব্যবধান কত দ্রুত কমানো যায়, সেটিই দেশের শিল্প ও জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।