দেশের চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে শিল্প ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক শিল্পকারখানা স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না।

গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোতে সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদনের সময় ও সক্ষমতা দুটিই কমে আসে। এতে একদিকে পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।

শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য জ্বালানি সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব হলো উৎপাদন পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা। নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করতে না পারলে সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ে।

গ্যাস সংকটের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হওয়ায় শিল্পকারখানাগুলোকে বিকল্প জ্বালানি বা নিজস্ব জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

এর প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়ছে। জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হলে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব বাজারদরেও পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তাই শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও পূর্বানুমানযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে শিল্প উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।