তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশের কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার, ২৮ অক্টোবর গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শ্রম পরিস্থিতি ও নিরাপদ অভিবাসনবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য শ্রমিক অসন্তোষ কমানো এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের তালিকা পাওয়া গেছে
মন্ত্রী জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের তালিকা সরকার পেয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এর আগের দিন, ২৭ অক্টোবর শ্রমমন্ত্রী বলেছিলেন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে, যদি সরকারি ছুটি না থাকে। পরদিনের বক্তব্যে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানান।
গেজেট প্রকাশ মানেই কি নতুন মজুরি ঘোষণা?
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এখন যে গেজেট প্রকাশের কথা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন। বোর্ড গঠনের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ও প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যালোচনা করে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগোবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এর আগে জানিয়েছিলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে। মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশী দেশগুলোর মজুরির হার এবং কারখানাভেদে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাই নতুন মজুরি কত টাকা হবে, কবে থেকে কার্যকর হবে কিংবা বিভিন্ন গ্রেডে কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এসব বিষয়ে বোর্ডের পরবর্তী কার্যক্রম ও সরকারি ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে মজুরি পরিশোধের নির্দেশ
শ্রমিকদের বকেয়া ও নিয়মিত মজুরি পরিশোধের বিষয়েও কারখানার মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি মালিকদের নির্দেশ দেন।
গাজীপুরের সভায় শিল্পাঞ্চলের সমস্যা দ্রুত সমাধানে একটি বিশেষ সমন্বয় ও মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, পোশাক ও নিট পোশাকশিল্পের মালিক সংগঠন এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের যুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কারখানার অভ্যন্তরীণ সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের অপেক্ষা
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। এ খাতের শ্রমিকদের মজুরি, নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও কর্মপরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে উৎপাদন ও শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ হলে নতুন মজুরি নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশিত মজুরি কতটা প্রতিফলিত হবে, তা বোর্ডের আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এখন নজর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং বোর্ডের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে। নতুন মজুরির অঙ্ক, কার্যকর হওয়ার সময় ও গ্রেডভিত্তিক শর্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।





