গ্যাসের তীব্র সংকটে চিনি পরিশোধনকারী কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের বাজারে চিনির সরবরাহে টান পড়েছে। এর প্রভাবে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন বাজারে খোলা চিনির দাম কেজিতে প্রায় ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে খোলা চিনি এখন কেজি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১০৫ টাকা। ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দামও এক সপ্তাহে প্রায় ৫০০ টাকা বেড়েছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গত সপ্তাহে প্রতি মণ খোলা চিনির দাম ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এখন তা বেড়ে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকায় উঠেছে। অন্যদিকে, বাজারসংশ্লিষ্টদের হিসাবে এক সপ্তাহে প্রতি মণ চিনির দাম প্রায় ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৭৮০ টাকায়ও লেনদেন হয়েছে।

চিনি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক মিল পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। কোথাও সরবরাহ ২৫ শতাংশের বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আবার কোনো কোনো কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধও রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চিনির সরবরাহ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন।

চিনি পরিশোধনের জন্য শিল্পকারখানায় গ্যাসের প্রয়োজন হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে সরাসরি উৎপাদন সক্ষমতায় প্রভাব পড়ে এবং বাজারে সরবরাহ কমে যায়। বর্তমানে দেশে চিনি পরিশোধনের সঙ্গে মূলত কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত থাকায় কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হলেও বাজারে তার প্রভাব পড়ে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় তাদের একটি মিল কয়েক দিন বন্ধ ছিল এবং অন্যটি মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় চলেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টন চিনি সরবরাহ করা হতো, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টনে।

দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও চিনির দামে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কম উৎপাদন ও সরবরাহ সংকটের কারণে ভারত, দীর্ঘদিনের বড় চিনি রপ্তানিকারক দেশ, আবার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চিনি আমদানির পথে ফিরেছে। দেশটি অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

এদিকে প্যাকেটজাত চিনির দাম সব বাজারে একইভাবে বাড়েনি। তবে গ্যাস সংকট দীর্ঘ হলে পরিশোধন ও সরবরাহে আরও বিঘ্ন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। ফলে সামনে চিনির বাজারে দামের চাপ আরও বাড়ে কি না, এখন সেটিই নজরে রাখার বিষয়।