চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্যশিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্সিং স্কিমে যুক্ত হয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। প্রতিটি স্কিমের আওতায় রয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতের যোগ্য উদ্যোক্তারা উৎপাদন, ব্যবসা পরিচালনা ও রপ্তানি কার্যক্রমের প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারবেন। তবে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে। স্কিমে যুক্ত হওয়া মানেই প্রত্যেক আবেদনকারীর ঋণ অনুমোদন নিশ্চিত নয়।

দুটি খাতে ৪ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত এবং রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য খাতের জন্য আলাদা দুটি প্রি-ফাইন্যান্সিং স্কিম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিটি স্কিমের তহবিলের আকার ২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দুটি কর্মসূচি মিলিয়ে মোট অর্থায়নের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকা।

এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য হলো রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় মূলধনের জোগান নিশ্চিত করা।

৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ

স্কিম দুটির আওতায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সাধারণ বাণিজ্যিক ঋণের তুলনায় কম সুদে অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থাকায় সংশ্লিষ্ট শিল্পের উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।

বিশেষ করে কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন হয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলো এই অর্থায়ন থেকে উপকৃত হতে পারে।

রপ্তানিমুখী শিল্পে অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত খাদ্য খাতেরও ভূমিকা রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং কার্যকরী মূলধনের সংকট এসব খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এ অবস্থায় কম সুদের বিশেষ অর্থায়ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

কারা পাবেন এই ঋণ সুবিধা

ইউসিবির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্কিম দুটির আওতায় অর্থায়ন পেতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সংশ্লিষ্ট খাতের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

ঋণের পরিমাণ, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, জামানত এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউসিবির সংশ্লিষ্ট শাখা বা ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংকের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন সাপেক্ষেই ঋণ বিতরণ করা হবে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানিমুখী শিল্পে সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই দুটি স্কিমে ইউসিবির অংশগ্রহণের ফলে চামড়া ও হিমায়িত খাদ্য খাতের যোগ্য উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে ঋণ বিতরণের গতি, উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এবং অর্থের কার্যকর ব্যবহারের ওপর।

ব্যাংকিং খাতের এই উদ্যোগ রপ্তানিমুখী শিল্পের অর্থায়ন সংকট কমাতে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।