চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৮৬৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। ২০২৫ সালের একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৭২২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১৪৫ কোটি টাকা বা ২০ শতাংশের বেশি।

ব্যাংকটির জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদের সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুনাফা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে আয়। এ খাত থেকে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির আয় হয়েছে ৩ হাজার ২ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ২২৭ কোটি টাকা।

এ সময়ে ব্যাংকটির প্রকৃত সুদ আয়ও বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত সুদ আয় হয়েছে ৩২৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ১৬৯ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ঋণের সুদ বাবদ আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ঋণের সুদ বাবদ ব্যাংকটি আয় করেছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪ হাজার ২৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আমানতের সুদ বাবদ খরচ বেড়েছে তুলনামূলক কম। এ খাতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটি আমানতকারীদের পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে সমন্বিত মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সম্পদের পরিমাণ ছিল ৮৪ হাজার ৭২০ কোটি টাকা।

একই সময়ে ব্যাংকটির আমানত ও ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে আমানত ছিল ৬৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেড়ে হয়েছে ৭৭ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ৫০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা।

শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ মূল্য ছিল ৩৫ টাকা ৩৭ পয়সা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৪১ টাকা ৫১ পয়সা।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বিল-বন্ড থেকে আয়, ঋণের সুদ আয় এবং আমানতের সুদ বাবদ ব্যয়ের তুলনামূলক কম বৃদ্ধি সিটি ব্যাংকের নয় মাসের মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে পুরো বছরের মুনাফা নির্ধারিত হবে বাকি সময়ের আর্থিক ফলাফলের ওপর।