তেল ও গ্যাস আমদানির বিল পরিশোধের চাপ বাড়ায় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম সামান্য বেড়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দর দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের কার্যদিবসে এ দর ছিল ১২৩ টাকা ৭৩ পয়সা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডলারের দর বেড়েছে ২ পয়সা।
ব্যাংকারদের ভাষ্য, জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধের জন্য ডলারের চাহিদা বাড়ায় বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল ও গ্যাস কেনার অর্থ পরিশোধে আমদানিকারকদের ডলার প্রয়োজন হয়। ফলে আমদানি ব্যয়ের সময়সূচি ও ডলারের সরবরাহের ওপর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি নির্ভর করে।
জ্বালানি আমদানিতে বাড়ছে ডলারের চাহিদা
বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিল পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হয়।
যখন একই সময়ে আমদানির বিল পরিশোধের চাপ বাড়ে, তখন ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদাও বাড়তে পারে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হলে বিনিময় হারে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানির চাহিদা ছাড়াও ডলারের সরবরাহ ও অন্যান্য লেনদেনের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দর
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের কার্যদিবসের তুলনায় এই বৃদ্ধি সীমিত হলেও আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছেন ব্যাংকাররা।
আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দর এবং গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংকের নির্ধারিত ডলার কেনাবেচার হার এক নাও হতে পারে। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় গ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য হার ব্যাংক ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
ডলারের দামে পরিবর্তনের প্রভাব কোথায়?
ডলারের দাম বাড়লে আমদানি করা পণ্য কিনতে স্থানীয় মুদ্রায় বেশি অর্থ লাগতে পারে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বিনিময় হার বাড়তি ব্যয়ের একটি কারণ হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্পের উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ডলারের দর সামান্য বাড়লেই জ্বালানি বা অন্যান্য পণ্যের দাম সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে, এমন নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, আমদানির চুক্তি, সরকারি মূল্যনীতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ও চূড়ান্ত দামের ওপর প্রভাব ফেলে।
সামনে নজর ডলারের সরবরাহে
জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধের চাপ কতটা স্থায়ী হয় এবং ব্যাংকগুলো কীভাবে ডলারের চাহিদা মেটায়, তা আগামী দিনের বাজার পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ব্যবস্থাপনাও টাকার বিনিময় হার নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দর সামান্য বাড়লেও পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর।





