কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান নিয়ে বিরোধের জেরে চারজনকে ধরে নিয়ে পাহাড়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোখতার কামাল ও আলী আকবর নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পৃথক দুটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট কার্যালয়ের পাশের ভিলেজার পাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে মোখতার কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে একই ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আলী আকবরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুজনই টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত ইলিয়াস ও আলী আহমদ নামে আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এক লাখ ইয়াবার চালান নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
উদ্ধার হওয়া আহত ব্যক্তি ইলিয়াসের দাবি, এক লাখ ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইয়ের পর ৩০ হাজার ইয়াবার হিসাব না মেলায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে গত সোমবার রাতে মিজান নামে এক ব্যক্তি তাঁদের চারজনকে বিচারের কথা বলে হ্নীলার একটি সশস্ত্র মাদক কারবারি চক্রের হাতে তুলে দেন।
ইলিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর তাঁদের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে নির্যাতনে মোখতার কামালের মৃত্যু হয়। পরে আলী আকবরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার তাঁর মরদেহও উদ্ধার করে পুলিশ।
তবে ইয়াবার চালান ছিনতাই, অর্থ ও মাদক আত্মসাতের অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব তথ্য আহত ব্যক্তির অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে উঠে এসেছে।
মাদক কারবারিদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ পুলিশের
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পৃথক দুটি পাহাড়ি এলাকা থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধ ও মাদকের চালান নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় মাদক কারবারিদের একটি চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মরদেহ
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ ও নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীও প্রাথমিকভাবে ইয়াবা-সংক্রান্ত বিরোধের কথা জানতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তদন্তে বেরিয়ে আসবে ঘটনার নেপথ্যের কারণ
টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা ও নিজেদের মধ্যে বিরোধের ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে মাদকের চালান ও লেনদেনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের অভিযোগ নতুন নয়।
এ ঘটনায় চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও কারা তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিল, কার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে প্রকৃত বিরোধ কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।



