চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জের প্রতিযোগীরা। নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম তায়কোয়ানডো একাডেমি এবং পুরুষ বিভাগে শিরোপা জিতেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে শেষ হয়। সিজেকেএস জিমনেসিয়ামে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই ক্রীড়া আয়োজনের পর্দা নামে।
এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের সাতটি জেলার ২৯টি ক্লাব থেকে মোট ৪৮০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন বয়স ও বিভাগে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান খেলোয়াড়েরা।
নারী বিভাগে চট্টগ্রাম তায়কোয়ানডো একাডেমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি রানারআপ হয়েছে গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা। অন্যদিকে পুরুষ বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা চ্যাম্পিয়ন হয়।
পুরুষ বিভাগের রানারআপের তথ্য প্রকাশিত সংবাদে কিছুটা ভিন্নভাবে এসেছে। স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও বনানী তায়কোয়ানডো ক্লাবকে যৌথ রানারআপ বলা হয়েছে। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে শুধু বনানী তায়কোয়ানডো ক্লাবকে রানারআপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয় শুক্রবার (৯ অক্টোবর)। সিজেকেএস জিমনেসিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। প্রতিযোগিতার পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল নোমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সদস্য, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিসহ কোচ ও সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিজেকেএস অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
এ সময় বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য বাবুল হোসেন, সিজেকেএসের সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের আসরে দলীয় শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সাফল্য পেয়েছেন বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়েরা। বিশেষ করে রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের প্রতিযোগীরা ছয়টি স্বর্ণ ও ছয়টি রৌপ্যসহ মোট ১২টি পদক অর্জন করেছেন।
রাজশাহীর প্রিন্স আদনান ও ফাহমিদা হক ইরা নিজেদের বয়সভিত্তিক একক পুমসে এবং কিওরোগী—উভয় ইভেন্টেই স্বর্ণপদক জেতেন। এছাড়া আহনাফ ইসলাম, আবির আহমেদ পরশ ও মারিন আশরাফীও বিভিন্ন ইভেন্টে পদক অর্জন করেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রতিযোগিতা দেশের তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জেলা ও ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগীরা বড় পরিসরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তায়কোয়ানডোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী মাসগুলোতেও বিভিন্ন জেলায় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।








