চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের যাত্রীদের ওপর লরি উঠে গেলে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকায় রয়েল সিমেন্ট গেটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনাগামী শাপলা পরিবহনের একটি বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে চালক মহাসড়কের পাশে বাসটি থামান। বাস মেরামতের অপেক্ষায় কয়েকজন যাত্রী নেমে সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ঢাকামুখী একটি কনটেইনারবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের চাপা দেয়।

নিহতদের পরিচয় শনাক্ত

দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজন হলেন ফাতেমা আক্তার (৩৮), আবসা (৪৪), মো. আবু সিদ্দিক (৩৯), মো. রাকিব ও স্বপ্না আক্তার (৩০)। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু, তিনজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পর চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তা নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে আরও দুজন

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সেখানে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহতদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

লরি আটক, চালক পলাতক

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর লরিটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মহাসড়কে বিকল যানবাহনের পাশে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কে কোনো যানবাহন থেমে গেলে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং পেছন থেকে আসা যানবাহনকে সতর্ক করার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সীতাকুণ্ডের এই দুর্ঘটনায় বাস মেরামতের সময় যাত্রীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। তবে লরিটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

একটি বিকল বাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোক নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার তদন্ত, চালককে শনাক্ত করা এবং মহাসড়কে আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।