গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত দুটি পৃথক আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গ্রামীণ কল্যাণের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর ফলে আপাতত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বিরোধপূর্ণ করের অর্থ আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না।
তবে কর দাবির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের মূল রায় পুরোপুরি স্থগিত করা হয়নি। চেম্বার আদালতের আদেশটি মূলত কর আদায়সংক্রান্ত নির্দেশের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। আদেশের পর তিনি জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুটি লিভ টু আপিল আবেদন করা হয়েছে। মূল বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত চাওয়া হয়েছিল।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের আয়কর নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর দাবি করা হয়।
এনবিআরের ওই কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে।
পরবর্তী সময়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। রায়ে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে পৃথক দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।
বিরোধের অন্যতম বিষয় হচ্ছে গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় গ্রামীণ কল্যাণের পাওয়া অর্থের করগত শ্রেণিবিন্যাস। কর কর্তৃপক্ষের অবস্থান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থ অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে অনুযায়ী কর প্রযোজ্য।
অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট আয়ের বিপরীতে আগে থেকেই উৎসে কর কর্তন করা হয়েছে। একই আয়ের ওপর পুনরায় কর দাবি করা হলে দ্বৈত কর আরোপের প্রশ্ন তৈরি হয় বলে তাঁদের যুক্তি।
এ অবস্থায় চেম্বার আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশের কারণে কর আদায়ের নির্দেশ আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদন দুটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর দাবির বৈধতা ও সংশ্লিষ্ট বিরোধের নিষ্পত্তির বিষয়টি নির্ধারিত হবে।









