জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিচারকের উপস্থিতিতেই বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে আদালত ভবনের নিচে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হা/তা/হা/তির ঘটনাও ঘটে।
রোববার ৪ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে দুপুরে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা জামিন চান।
আখতারুজ্জামানের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হন জামায়াতপন্থী একদল আইনজীবী। বিচারক এজলাসে ওঠার আগেই আদালতকক্ষে দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে তাদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিরোধ শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেটি উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়।
বেলা ২টা ৪১ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে আসেন। তখনও আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় বিচারক কিছুক্ষণের জন্য এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে প্রায় চার মিনিট পর তিনি আবার এজলাসে ফিরে শুনানি শুরু করেন।
শুনানির শুরুতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান বিচারকের অনুমতি নিয়ে তার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। শুনানি চলার সময়ও দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে দফায় দফায় তর্কাতর্কি ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক আদালতে বলেন, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তার দাবি, বিমানবন্দরের ঘটনার সময় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেছিলেন এবং সেটিকেই অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অসুস্থতা বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে আখতারুজ্জামানের জামিন দেওয়া উচিত নয়। তার বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা আপত্তি জানান এবং সেখানেও উত্তেজনা তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে আসামিপক্ষ পিপির বক্তব্যের ভাষা নিয়েও আপত্তি তোলে। এ সময় দুই পক্ষের আইনজীবীরা আবারও হইচই শুরু করলে বিচারক তাদের শান্ত হতে বলেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তায় আখতারুজ্জামানকে নিচে নামিয়ে আনছিল। ঠিক তখনই আদালত ভবনের নিচে অপেক্ষমাণ জামায়াতপন্থী আইনজীবী ও সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে দুই পক্ষ ধাক্কাধাক্কি ও হা/তা/হা/তিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এগিয়ে আসে এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আখতারুজ্জামানকে আদালত ভবন থেকে বের করা হয়।
ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, জামায়াতপন্থীরা আদালতে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি হিসেবে এসেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় গত শুক্রবার আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।
রিমান্ড শেষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেওয়ায় আপাতত কারাগারেই থাকছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। আর তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতের ভেতর ও বাইরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আইনজীবী মহলেও আলোচনা চলছে।



