রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হ/ত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করা হয়েছে শাহরিয়ার কবিরসহ গ্রে/প্তার ১১ আসামিকে। আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগার থেকে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা।
শাহরিয়ার কবিরকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এর আগে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।
তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন।
মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রে/প্তার অবস্থায় আছেন এবং শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন পলাতক বলে প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন জুলাইয়ে এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের তালিকায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশপ্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং কয়েকজন গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্ত শেষে প্রসিকিউশনে দেওয়া প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি এলাকার ঘটনাকে মামলার অংশ করা হয়। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ওই সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৫৭ জন নি/হ/ত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা প্রসিকিউশনের অভিযোগের অংশ এবং বিচারিকভাবে এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত নয়।
এর আগে তদন্ত চলাকালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, শুধু শাপলা চত্বরের ঘটনাতেই ৩২ জনের মৃ/ত্যুর তথ্য তারা সংগ্রহ করেছেন। পরবর্তী তদন্তে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ঘটনাও মামলার পরিধিতে আসে।
শাপলা চত্বরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রসিকিউশন ‘জেনোসাইড’সহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে। তবে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
শাহরিয়ার কবির এর আগেও একই মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন। তার পক্ষ থেকে কারাগারে ডিভিশন সুবিধা চেয়ে আবেদনও করা হয়েছিল। এছাড়া তার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে হুইলচেয়ার ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে শাহরিয়ার কবিরের আটকের বৈধতা নিয়ে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তার আটককে ‘arbitrary’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে শাপলা চত্বরের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও রয়েছে।
আজকের অভিযোগ গঠনের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল যদি প্রসিকিউশনের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, তাহলে মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে। তবে প্রতিরক্ষা পক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।



