জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে গৃহীত সিদ্ধান্তে হানিফ অংশ নিয়েছিলেন এবং দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও ভূমিকা রেখেছিলেন বলে প্রসিকিউশনের বক্তব্য। এসব অভিযোগ ও উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রসিকিউশন বলছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক সিদ্ধান্ত, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক মূল্যায়ন করবে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে একই ধরনের মামলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক সরকারি পদধারীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলেছে। কিছু মামলায় ইতোমধ্যে রায়ও হয়েছে। তবে হানিফসহ চারজনের মামলায় এখনো বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান, তাই অভিযোগগুলোকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই যতক্ষণ না চূড়ান্ত রায় হয়।
প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর এখন আসামিপক্ষের পালা। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে প্রতিরক্ষা পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবে বলে জানা গেছে। এরপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হতে পারে।
প্রসিকিউশন সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেও আসামিপক্ষ এখনো তাদের পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করেনি। ফলে বিচার শেষ হওয়ার আগে মামলার ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।



