মাকে বলেছিলেন, একটু কথা বলে আসবেন। এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে যান বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। গভীর রাতে মায়ের ফোনে আসে তাঁর ফেরার বার্তা। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হয়নি। পরদিন রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ম/রদেহ। এবার সামনে এসেছে বাসা থেকে বের হওয়ার সময়কার একটি সিসিটিভি ফুটেজ, যা ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফ এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তাঁরা হাত মেলান। তাঁদের পাশেই চালু অবস্থায় ছিল নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল। পরে দুজনকে ওই স্থান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলালের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের বেশির ভাগ সময় মায়ের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে দ্বীপ নামে তাঁর এক জুনিয়র বন্ধু বাসার নিচ থেকে ডাকেন। তখন মাকে বন্ধুর সঙ্গে একটু কথা বলে আসার কথা জানিয়ে বের হন তাহসিফ।

কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া পাননি।

এরপর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের মায়ের ফোনে একটি বার্তা আসে। তাতে লেখা ছিল, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল তাঁর সঙ্গে শেষ যোগাযোগ।

সেই বার্তার পর কী ঘটেছিল? তিনি কোথায় গিয়েছিলেন? আর যে ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, তাঁর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কতক্ষণ ছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে একটি ম/রদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি তাহসিফের।

তাঁর বাবা জানিয়েছেন, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ। ফলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কীভাবে তিনি ওই এলাকায় পৌঁছালেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।

ছেলের মৃ/ত্যুকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না তাঁর বাবা। তিনি ঘটনাটির সঠিক কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তবে কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে তাহসিফের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ম/য়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তাহসিফের সঙ্গে শেষবার দেখা হওয়া ব্যক্তির পরিচয়, তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য এবং পরিবারের সঙ্গে শেষ যোগাযোগের পরের ঘটনাপ্রবাহ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সিসিটিভিতে কারও সঙ্গে দেখা যাওয়াই তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়