গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌ/ন নি/পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির পরিবারের বাসায় গিয়েছিলেন বলে সিসিটিভি ফুটেজভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে পরিবারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। এদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯ অক্টোবর। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটিকে নি/পীড়ন করেন প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক। পরে শিশুটি ভয়ে কয়েক দিন মাদ্রাসায় যায়নি। মা-বাবা কারণ জানতে চাইলে সে তাঁদের কাছে ঘটনার কথা জানায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানোর পর ২১ অক্টোবর শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
পরদিন শিশুটির পরিবারের বাসায় যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজের বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। ব্যাগে মিষ্টি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে শিশুটির মায়ের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে মাদ্রাসা পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে নি/পীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।
২৫ অক্টোবর গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা ও কয়েকটি মুঠোফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। শিশুটির বাবা অর্থ লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে হু/মকি পাচ্ছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হু/মকির অভিযোগ করেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ, দুটিই তদন্তের বিষয়। কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে ধরে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।





