ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সৌরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিখোঁজ হওয়ার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা অঞ্চলের নদীপুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

মুঠোফোন থেকে পরিচয় শনাক্ত

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল কালো শার্ট ও সাদা পায়জামা। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

নৌপুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই

পুলিশ জানিয়েছে, তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের আগে এটিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উত্তরখান থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হলে এবং তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন বাবা

তাহসিফের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার তাঁর বাবা কে এম এনায়েত হেলাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছেলে মাঝেমধ্যে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। তবে কেন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বলে তাঁর বাবা উল্লেখ করেছেন।

ছেলের মৃত্যুর পেছনে কে বা কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের সম্পৃক্ততা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত নয়।

২০২৪ সালের একটি ভিডিও ঘিরেও আলোচনা

তাহসিফ সৌরীর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ভিডিও নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানে করে দেশ ছাড়তে দেখা যায় বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে ভিডিওটি ধারণ বা প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভিডিওটি ধারণ বা প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিওর কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন তাহসিফ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরীকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করে অবসর দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকার কথা জানানো হয়নি।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।