নয় মাসে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য, তথ্য দিলেন প্রেস সচিব
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য জানিয়েছেন তাঁর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ শিবলী। গত ১৬ অক্টোবর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠানে তিনি একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। একই সময়ে বিএনপিকে ঘিরে ১১৮টি এবং সরকারকে ঘিরে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্যও জানান তিনি।
কোন সময়ের হিসাব, কীভাবে শনাক্ত
প্রেস সচিবের বক্তব্যে উল্লেখ করা সময়কাল হলো ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ, এই পরিসংখ্যান গত নয় মাসে শনাক্ত হওয়া অপতথ্য নিয়ে, পুরো বছরের হিসাব নয়।
তথ্যগুলোর উৎস হিসেবে তিনি একটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। তবে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ৪১০টি ঘটনার প্রতিটির ধরন, কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতটি ছড়িয়েছে কিংবা শনাক্তের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।
রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে কী আছে
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে অন্তত ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাঁকে নিয়ে শনাক্ত হওয়া অপতথ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক উপস্থাপনার।
রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। শনাক্ত হওয়া এসব ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশ ছিল রাজনৈতিক বিষয়ক।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। তবে এই মোট সংখ্যা এবং প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে শনাক্ত ৪১০টি অপতথ্য আলাদা হিসাব; একটি অন্যটির সমার্থক নয়।
সরকার ও বিএনপিকে ঘিরে পরিসংখ্যানে পার্থক্য
প্রেস সচিবের বক্তব্যে সরকারকে ঘিরে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে রিউমার স্ক্যানারের ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএনপি সরকারকে ঘিরে প্রথম নয় মাসে ৪৯১টি অপতথ্য শনাক্তের তথ্য রয়েছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন, নেতা-কর্মীদের ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি আলাদাভাবে ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে।
দুটি সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকায় হিসাবের আওতা, শ্রেণিবিন্যাস কিংবা গণনার পদ্ধতি একই ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আলাদা ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে সংখ্যাগুলোকে একই পরিসংখ্যান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব
ডিআরইউর অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে দায়িত্বহীন আচরণও বেড়েছে। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো খবর দেখার পর মানুষ তার সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।
তিনি প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক অনুষ্ঠান চালুর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি তথ্য যাচাইয়ের অনুষ্ঠানও মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
ছবি ও ভিডিও প্রকাশের আগে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বড় সংবাদমাধ্যমও যাচাই না করে ভুয়া ছবি বা তথ্য প্রকাশের ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেন প্রেস সচিব।
আইন ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে বক্তব্য
অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় কার্যকর আইন থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ছালেহ শিবলী। তবে সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন তৈরি বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সময়ের প্রয়োজনে আইনের সংশোধন ও পরিবর্তনের সুযোগ রাখার কথাও বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য শনাক্তের পরিসংখ্যানটি একটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই এই সংখ্যাকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শনাক্ত করা কনটেন্টের সংজ্ঞা, যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং সময়কাল বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য যাচাইয়ের নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।





