নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি স্টিল রোলিং কারখানায় লোহা গলানোর চুল্লি বি/স্ফো/রণে চার শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার বরপা আড়িয়াব এলাকায় প্রিমিয়ার স্টিল রি-রোলিং মিলস কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত চার শ্রমিককে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ শ্রমিকেরা হলেন সজীব সরকার (৩২), রুবেল আহমেদ (২৮), নাজমুল (৩৩) ও আবির (১৯)। তাঁদের প্রত্যেকের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দগ্ধ হয়েছেন সজীব সরকার। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, সজীব সরকারের শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া রুবেল আহমেদের শরীরের ২৫ শতাংশ, নাজমুলের ২০ শতাংশ এবং আবিরের শরীরের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চারজনকেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে সজীবের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কারখানাটিতে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। এ সময় লোহা গলানোর চুল্লিতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে চুল্লির চারপাশে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা দগ্ধ হন। ঘটনার পর কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকদের সহকর্মী নাবিল তালুকদার জানান, রাত ৮টার দিকে কাজ শেষে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কারখানা থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর মানুষের চিৎকার শুনে পেছনে তাকান। তখন দেখতে পান, চুল্লির আশপাশে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত ফিরে এসে কয়েকজন শ্রমিককে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
নাবিলের ধারণা, চুল্লিতে ছিদ্র তৈরি হয়ে গলিত লোহা নিচে পড়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে চুল্লির যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বি/স্ফো/রণের পর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্টিল রোলিং কারখানায় লোহা ও ইস্পাত প্রক্রিয়াজাত করার সময় উচ্চ তাপমাত্রার চুল্লি ব্যবহার করা হয়। এসব চুল্লি থেকে গলিত ধাতু বেরিয়ে এলে আশপাশে থাকা শ্রমিকদের গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রূপগঞ্জের এ দুর্ঘটনায়ও গলিত লোহা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক।
তবে কারখানাটিতে দুর্ঘটনার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, চুল্লিতে আগে থেকে কোনো ত্রুটি ছিল কি না কিংবা শ্রমিকেরা যথাযথ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক কয়েকটি প্রতিবেদনে দগ্ধ শ্রমিকদের পরিচয় ও বয়স নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সজীব সরকার, রুবেল আহমেদ, নাজমুল ও আবির নামে চার শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সজীবের অবস্থাই সবচেয়ে গুরুতর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চার শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে চুল্লি বি/স্ফো/রণের প্রকৃত কারণ এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।




