তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট নয়াদিল্লি সফরের খবর গণমাধ্যমে এলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।

ভারতীয় গণমাধ্যমে সবার আগে এই সফরের সম্ভাবনার কথা প্রকাশ পায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি নতুন কোনো তথ্য দেননি।

এর মধ্যে আলোচনায় আসে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি বিজ্ঞপ্তি, যেখানে একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার উল্লেখ ছিল। বিজ্ঞপ্তিটি পরে প্রত্যাহার করা হয়, এবং তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

প্রত্যর্পণ ইস্যুই মূল আলোচনায়

দুই দেশের সম্পর্কে এই মুহূর্তে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্ন। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অনুরোধের জবাবের অপেক্ষায় আছে ঢাকা। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনাধীন।

প্রত্যর্পণ ছাড়াও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও পানি বণ্টনের মতো ইস্যু নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণও আলোচনায়

এর আগে কূটনৈতিক পর্যায়ে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছে ভারত।

তবে ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের প্রস্তাবিত সফর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। নির্ধারিত সূচি অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি তারিখ পরিবর্তন হবে, নাকি সফরই স্থগিত হয়ে যাবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই সফর নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সুযোগ নেই। ফলে সম্ভাব্য এই সফরের দিকেই এখন নজর রাখছে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।