সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার, রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ
১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলার সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তারা। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত রপ্তানিমুখী কারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুতা। বিশেষ করে নিটওয়্যার ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের উৎপাদনে নির্দিষ্ট মানের তুলার সুতা প্রয়োজন হয়।
বন্ড সুবিধার মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্তে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পেয়ে থাকে। এই সুবিধা প্রত্যাহার হলে কারখানাগুলোর কাঁচামাল সংগ্রহের খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।
তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাতের সংগঠনগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, দেশীয় সুতা উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও সব ধরনের মান ও চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল সরবরাহ সবসময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। ফলে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজন বিবেচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
রপ্তানি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাক শিল্পে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাঁচামাল আমদানি নীতিতে পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া সহজ হবে।
অন্যদিকে, নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিতে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে রপ্তানিমুখী শিল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এখন পোশাক ও নিটওয়্যার খাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। উদ্যোক্তারা এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।




