আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আগে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি যাচাই করছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। দেশের ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশের ইলিশ জনপ্রিয় হওয়ায় উৎসবের আগে রপ্তানির অনুমতি নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে ইলিশ বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য হওয়ায় রপ্তানির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পরই সাধারণত রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত বছরও দুর্গাপূজার আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে কম পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানির সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের পরিচিতি আরও বাড়বে এবং রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাও জরুরি।
মৎস্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইলিশ শুধু দেশের জনপ্রিয় মাছ নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশ রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশের বাজার, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রপ্তানি ও স্থানীয় চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
১৮ প্রতিষ্ঠানের আবেদন পাওয়ার পর এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রপ্তানিকারকরা। অনুমতি দেওয়া হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।




