বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু এবং স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানির ওপর থাকা বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসার পথে থাকা বিভিন্ন বাধা দূর করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন বাধার কারণে দুই দেশের বাণিজ্য কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম বিষয় ছিল স্থলপথে ভারতীয় সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এনবিআরের নথিতে ওই প্রজ্ঞাপনটি ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের বলে উল্লেখ রয়েছে।
এবার ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ওপর থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। একই বৈঠকে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু এবং স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে প্রায় ৯৯৮ বিলিয়ন টাকা মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে, যা ওই অর্থবছরের মোট আমদানির প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ভারতের কাছ থেকে আমদানির বড় অংশের মধ্যে বস্ত্র ও বস্ত্রজাত পণ্যও রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো কমিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও কার্যকর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে সীমান্ত হাট চালু বা সুতা আমদানির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে—এখন পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের পরবর্তী ধাপে সীমান্ত হাট, স্থলবন্দর ও সুতা আমদানির বিষয়গুলো কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থলপথের বাণিজ্য কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।



