দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানি কোটা অর্ধেক করল সরকার

দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৭৮ জন রপ্তানিকারকের জন্য নির্ধারিত রপ্তানি সীমা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংশোধিত এই রপ্তানি কোটা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আগে সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য মোট প্রায় ৪৫ হাজার টনের অনুমোদন দিয়েছিল।

তবে অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই পরিমাণের খুব সামান্য অংশ রপ্তানি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবার রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে চালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে দেশের ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

সুগন্ধি চাল বাংলাদেশের বিশেষ ধরনের কৃষিপণ্য, যার মধ্যে বিভিন্ন জাতের পোলাও চাল, কালোজিরা ও অন্যান্য সুগন্ধি ধান থেকে উৎপাদিত চাল রয়েছে। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব চালের চাহিদা রয়েছে।

রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহ সংকট তৈরি হলে সরকার বিভিন্ন সময় রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন আনে।

চাল উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হলে উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের ভোক্তা স্বার্থ ও রপ্তানি সম্ভাবনার মধ্যে ভারসাম্য রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত পরিমাণ কমে গেলেও দেশের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।