বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে বায়ুদূষণকারী সূক্ষ্ম কণার উচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে দূষণ চলতে থাকলে বনটির উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ গবেষণায় শরণখোলা রেঞ্জে পিএম২.৫-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ১০২ মাইক্রোগ্রাম এবং চাঁদপাইয়ে ৮৯ দশমিক ৩ মাইক্রোগ্রাম পাওয়া গেছে। গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পকারখানার ধুলিকণা, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল পরিবহন এবং জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় ছড়িয়ে পড়া ধুলা বায়ুদূষণের সম্ভাব্য উৎস। বাতাসের প্রবাহের সঙ্গে এসব কণা সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও পৌঁছাতে পারে। তবে দূষণের প্রতিটি উৎসের অবদান নিশ্চিত করতে আরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
গবেষকদের আশঙ্কা, গাছের পাতায় ধুলিকণা জমলে সূর্যের আলো প্রবেশ ও সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হতে পারে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যজাল ও জীববৈচিত্র্যেও প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দূষণের প্রভাব নির্ধারণে ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় বায়ুমান পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং শিল্পকারখানায় ধুলা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি এবং কার্যকর দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।





