পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েক দফা আকাশপথের চালানে জ্বালানি বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ সম্পন্ন করা হবে।
রোসাটমের ২৯ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকল্পের চুক্তি ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারেই দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাকি জ্বালানি সাতটি পৃথক কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালান এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর পাঠানোর কথা ছিল। তবে আকাশপথের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতায় সেই চালান স্থগিত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী অক্টোবর থেকে সরবরাহ শুরু হবে।
রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি পৌঁছানো শুরু হলে কমিশনিং কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়া যাবে। জ্বালানি সরবরাহ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিংসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল। পরে ১৩ মে রোসাটম জানায়, প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোড করা সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে ২০২৩ সালের অক্টোবরে। সেই সময় রূপপুর প্রকল্পের পারমাণবিক জ্বালানি গ্রহণকে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়েছিল।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, ফলে পুরো কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রোসাটম প্রকল্পটির প্রধান ঠিকাদার ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে। প্রথম ইউনিট এরই মধ্যে অপারেশনাল ধাপে প্রবেশ করেছে, আর দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলে পুরো প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পথে এগোবে।




