শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জনকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে শিক্ষার্থী, পরিবহন শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে উৎসাহিত করাই এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে এসব প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শব্দদূষণের উৎস, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
শব্দদূষণের অন্যতম বড় উৎস যানবাহনের হর্ন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় হর্ন, যানজট এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজের কারণে উচ্চমাত্রার শব্দ তৈরি হয়। এ ধরনের শব্দ দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার না করা এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শব্দদূষণ শুধু বিরক্তির কারণ নয়, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শ্রবণশক্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণকে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের বিষয় হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও আইন প্রয়োগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য হলো শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনসচেতনতা আরও বিস্তৃত করা।
তবে শুধু প্রশিক্ষণ বা সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শব্দদূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি বিদ্যমান আইন প্রয়োগ, অপ্রয়োজনীয় হর্ন বন্ধ করা এবং শব্দের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
সরকারের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে তাই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে শব্দদূষণ কমাতে সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলাই এর অন্যতম লক্ষ্য।




