নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো রক্ষা ও সংরক্ষণের বিষয়টি বিশ্ব নদী দিবসে আবারও আলোচনায় এসেছে। দেশের ১,৪১৫টি নদী দখল, দূষণ, পলি জমা এবং স্বাভাবিক জলপ্রবাহের পরিবর্তনের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নদীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দেশের অসংখ্য মানুষের জীবিকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃষিকাজ সরাসরি নদীর ওপর নির্ভরশীল।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নদী সংকুচিত হয়েছে। কোথাও অবৈধ দখল, কোথাও শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্যের দূষণ, আবার কোথাও পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, নদীর সংকট শুধু পানির সমস্যা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জীববৈচিত্র্য, কৃষি উৎপাদন, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা।

দেশের বিভিন্ন নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দূষণ বাড়ছে। এর ফলে নদীর পানি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও নদীব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন, অতিরিক্ত পলি প্রবাহ এবং নদীর গতিপথে পরিবর্তন অনেক এলাকায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

নদী রক্ষায় সরকার বিভিন্ন সময়ে দখল উচ্ছেদ, সীমানা নির্ধারণ ও নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দখলমুক্ত করলেই নদী রক্ষা সম্ভব নয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিশ্ব নদী দিবস প্রতি বছর নদীর গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পালিত হয়। এই দিনে বাংলাদেশের নদীগুলোকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।