বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর আর্মি হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই পক্ষ পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের বর্তমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় যে অবদান রেখে চলেছে, সেটিও বৈঠকে উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে ইউএনবি ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেনাপ্রধানের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেয়। বৈঠকের অন্য কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন চুক্তির ঘোষণা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

টাইগার লাইটনিংয়ে বাংলাদেশি বিশেষ বাহিনীর প্রশংসা

সাক্ষাতে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্সেসের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার প্রশংসা করেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের (USARPAC) সঙ্গে অনুষ্ঠিত ‘এক্সারসাইজ টাইগার লাইটনিং ২০২৬’-এ বাংলাদেশি সেনারা অংশ নেন।

সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৯ জুলাই শুরু হওয়া এই যৌথ সামরিক মহড়া ২৯ জুলাই শেষ হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং ইউএস আর্মি প্যাসিফিক ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা অংশ নেন।

মহড়াটির লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও সমন্বয় বাড়ানো। প্রশিক্ষণে জঙ্গল অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, চিকিৎসা সহায়তা, কাউন্টার-আইইডি এবং বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক সামরিক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যেও সহযোগিতার বিষয়টি

টাইগার লাইটনিংয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ইউএস আর্মির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন—এই ধরনের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দুই বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেশাদার সম্পর্ক ও প্রস্তুতি জোরদার করে।

ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের তথ্য অনুযায়ী, টাইগার লাইটনিং একটি নিয়মিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়া। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পেশাদার সম্পর্ক, সামরিক কার্যক্রম, প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সর্বশেষ প্রেক্ষাপট

সেনাপ্রধান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠকটি এমন সময়ে হলো, যখন জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত টাইগার লাইটনিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আরেকটি পর্ব শেষ হয়েছে। মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারীদের সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করার স্বীকৃতিও দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক বৈঠকে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি বা নির্দিষ্ট অস্ত্র ক্রয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয় ছিল দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবদান।