বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে চালু হয়েছে প্রায় ৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ পর্যন্ত ৪০০ কেভি ক্ষমতার এই লাইন এবং শম্ভুগঞ্জের নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র চালু করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই অবকাঠামো চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসানের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন সঞ্চালন লাইনটির দৈর্ঘ্য ৯৬ দশমিক ৮৯১ কিলোমিটার। এর সঙ্গে চালু হয়েছে শম্ভুগঞ্জ ৪০০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, নতুন লাইন চালু হওয়ায় ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল এবং নেত্রকোনার একাংশে দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ সমস্যা অনেকাংশে কমেছে। আগে গ্রীষ্মের তীব্র চাহিদার সময় সংশ্লিষ্ট ১৩২ কেভি নেটওয়ার্কে ভোল্টেজ ১০২ থেকে ১০৫ কেভিতে নেমে আসত। নতুন অবকাঠামো চালুর পর তা বেড়ে ১২০ থেকে ১২১ কেভিতে পৌঁছেছে।
গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। এত দিন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে সঞ্চালন নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন লাইন চালুর ফলে এই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের আশা, নতুন অবকাঠামোর কারণে বছরে গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস কমতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনের বিকল্প পথ তৈরি হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও নির্ভরযোগ্য হবে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রকল্প বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল শিল্পকারখানা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, তৈরি পোশাকশিল্প এবং চালকলের মতো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্প্রসারণেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে নতুন সঞ্চালন লাইন চালু হওয়া মানেই সব এলাকায় লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য শুধু সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস ও জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং বিতরণ ব্যবস্থার অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে নতুন সঞ্চালন লাইন জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ আনার সুযোগ বাড়ালেও প্রকৃত স্বস্তি কতটা মিলবে, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।
নতুন অবকাঠামো চালুর ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সক্ষমতা বাড়ল এবং লো-ভোল্টেজ সমস্যার ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এখন এই সুবিধা সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান কতটা নিয়মিতভাবে পান, সেটিই হবে প্রকল্পটির কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।





