বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করার পক্ষে জার্মানি। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে জোর দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ।
৭ অক্টোবর বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে বাংলাদেশ-জার্মানি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
জার্মান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
বিমান চলাচল খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর এক দিন আগে, ৬ অক্টোবর জার্মান রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে বাংলাদেশ-জার্মানি বিমান যোগাযোগ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উন্নয়ন এবং দেশের বিমান চলাচল খাত নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে জার্মান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করেন এবং দেশটির বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে জার্মান কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য জার্মানিকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ও জার্মানির আলোচনায় ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই পক্ষই বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে মতবিনিময় করেছে এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ইইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ইইউর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলও বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ও বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস।
জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম ইউরোপীয় দেশগুলোর একটি ছিল জার্মানি। বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মধ্যে জলবায়ু ও জ্বালানি, কারিগরি শিক্ষা এবং টেকসই সরবরাহব্যবস্থা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জার্মানির এই সমর্থন তাই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




