রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দেশটির কর্তৃপক্ষের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে এ আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর সমাধানে ওআইসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
তিনি রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে ধরে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের টেকসই সমাধান কোনো একক দেশের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এ জন্য ওআইসির সদস্যরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একটি আরও শক্তিশালী ও আধুনিক ওআইসি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, মুসলিম বিশ্বের সামনে থাকা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগ গ্রুপও মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তুলে ধরছে। দেশটির অবস্থান হলো, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাগদাদের এবারের অধিবেশনেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ওআইসি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা কামনা করেছে বাংলাদেশ।





