প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকেও নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআরসিটিএ খোলা ও পরিচালনা করা যাবে। এই হিসাবের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও প্রয়োজনীয় লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে অর্থ বিদেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগও থাকছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য আগে চালু করা বিশেষ টাকা হিসাবের ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। গত ২৩ জুন জারি করা আগের নির্দেশনার পরিবর্তে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে পুরোনো নিয়মে খোলা হিসাবগুলো বহাল থাকবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসীরা এনআরসিটিএ হিসাব সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা মেয়াদি আমানত হিসেবে পরিচালনা করতে পারবেন। বিদেশ থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থ টাকায় রূপান্তর করে এসব হিসাবে জমা রাখা যাবে।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব, অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাব এবং অন্য এনআরসিটিএ থেকে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। হিসাবে জমা অর্থের সুদ বা মুনাফা এবং অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থও জমা রাখার সুযোগ রয়েছে।

হিসাবের অর্থ ব্যবহার করেও প্রবাসীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। দেশে বৈধ কেনাকাটা, বিভিন্ন পাওনা পরিশোধ এবং অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজন হলে অন্য যোগ্য অনাবাসী টাকা হিসাবেও অর্থ স্থানান্তর করা যাবে।

ব্যাংকগুলোও এনআরসিটিএ হিসাবে জমা অর্থ নির্ধারিত নিয়ম মেনে ঋণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি প্রবাসীরা নিজেদের আমানত জামানত রেখে টাকায় ঋণ নিতে পারবেন। অনুমোদিত ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ব্যবসা বা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার উদ্দেশ্যেও এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে।

নির্দেশনায় হিসাব পরিচালনার আরও কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়ে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন। হিসাবধারীর মৃত্যু হলে যোগ্য অনাবাসী নমিনির কাছে অর্থ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। এমনকি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরও নির্ধারিত নিয়মে হিসাব চালু রাখা যাবে।

প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা সহজ করতে অনলাইনে হিসাব খোলা ও ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সুবিধা চালুর জন্য ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এসব সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, অর্থের উৎস ও প্রচলিত ব্যাংকিং বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

এর আগে গত জুনে প্রবাসীদের জন্য এনআরসিটিএ সুবিধা চালু করা হয়েছিল। তখন মূলত অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনার ব্যবস্থা ছিল। নতুন নির্দেশনায় অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করায় এই সেবার পরিধি আরও বাড়ল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থায় প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তাঁদের অর্থ আরও সহজে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের আমানত ব্যাংকগুলোর ঋণ কার্যক্রমেও ব্যবহার করা যাবে। ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী অর্থের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।