পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং অঞ্চলজুড়ে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম শিগগিরই দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন মন্দিরে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পার্বত্য অঞ্চলের সব বাসিন্দার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়নির্বিশেষে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

অনুমোদিত উন্নয়ন উদ্যোগে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার প্রসার, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিকাজে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং টেকসই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের জীবনমান উন্নত করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপদ পানির সংকট দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবসম্মত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং পানির টেকসই উৎস নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর আওতায় পানি, শিক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তবে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং মোট কত মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি এবং উন্নয়নের সুফল নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।