চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে ভর্তুকি বাবদ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। জ্বালানি আমদানি ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ সামাল দিতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের মূল্য ওঠানামা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের চাপের কারণে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজন বাড়ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের বড় ভূমিকা রয়েছে। স্থানীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় জ্বালানি খাতে ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তন সরাসরি জ্বালানি খাতের ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। এ কারণে সরকারকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুৎ দামের মধ্যে পার্থক্য সমন্বয় করতেও ভর্তুকির অর্থ ব্যবহার করা হয়। একইভাবে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায়ও সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি খাতে ব্যয় কমাতে সরকার একদিকে আমদানি ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ বৃদ্ধি ও স্থানীয় জ্বালানি অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গেও সমন্বয় করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।