বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের হিসাবে গড়ে সরকারি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট সরকারি ঋণের হিসাবের ভিত্তিতে এই তথ্য জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মোট পরিমাণ হিসাব করে মাথাপিছু ঋণের এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়া হয়ে থাকে। তবে ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার রাজস্ব আয় বাড়ানো ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো এবং অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে সরকারি ঋণ একটি প্রচলিত অর্থায়ন পদ্ধতি। তবে ঋণের পরিমাণ, সুদ পরিশোধের সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এর ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সুফল এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ঋণের পাশাপাশি দেশের রাজস্ব আয়, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এসব সূচকই নির্ধারণ করে একটি দেশ ভবিষ্যতে ঋণের দায় কতটা সহজে পরিচালনা করতে পারবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আয় বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।