বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার পথে ফিরলেও পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার এখনও দূরের পথ—এমন মূল্যায়ন দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা CPD।
সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ৩১টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের মধ্যে ১২টিতে উন্নতি হলেও ১৯টিতে অবনতি হয়েছে।
CPD-এর বিশ্লেষণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির মতো কিছু সূচকে তুলনামূলক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে রাজস্ব আদায়, কর্মসংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং জ্বালানি সরবরাহসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাপ রয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হচ্ছে বিনিয়োগের দুর্বলতা। নতুন শিল্প স্থাপন, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় অর্থনীতির সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ছে ধীরগতিতে।
এদিকে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগের পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা সরকারের উন্নয়ন ব্যয় ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে।
CPD বলছে, শুধু কিছু ম্যাক্রো অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতি দিয়ে টেকসই পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হবে না। ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার প্রাথমিক লক্ষণ থাকলেও এর সুফল সাধারণ মানুষের আয়, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।



