দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই তিন দফায় মূল্যবৃদ্ধির পর ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন দর নির্ধারণ করেছে।

বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম আগের দিনের তুলনায় ৫ হাজার ৪৮৩ টাকা বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।

নভেম্বরের শুরু থেকেই দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ছে। গত ২ নভেম্বর ২২ ক্যারেটের সোনার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর ৪ নভেম্বর বাড়ানো হয় আরও ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আবারও দাম বাড়ানো হলো। প্রথম আলোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে তিন দফায় সোনার দাম মোট ১২ হাজার ৭২ টাকা বেড়েছে।

সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপা ২ হাজার ৯১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ২১৬ টাকা।

দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণে স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর আগে ৪ নভেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বাজুস জানিয়েছিল, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৩৪ দশমিক ৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। আগের দিন বুধবারও দাম বেড়েছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ২২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডলারের দুর্বল হয়ে পড়া এবং মার্কিন সরকারি বন্ডের মুনাফার হার কমে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডলারের মূল্য কমলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে ডলারে নির্ধারিত সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়। এতে সোনার চাহিদা ও দামে প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশাও সোনার বাজারকে প্রভাবিত করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হার কমে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে, বাজারে এখনো ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে ডলারের মূল্য, সুদের হার ও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তের ওপর।

দেশের বাজারে সোনার দামের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা উপহার হিসেবে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে গয়নার চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের সময় নির্ধারিত সোনার দামের পাশাপাশি নকশাভেদে মজুরি ও প্রযোজ্য ভ্যাটও বিবেচনায় নিতে হয়।

সব মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে। তবে সামনে দাম আরও বাড়বে, নাকি কমবে, তা নির্ভর করবে বিশ্ববাজারের গতিপথ, ডলারের মূল্য এবং স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার দামের পরিবর্তনের ওপর।