বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। অক্টোবর মাসের জন্য প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। 

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা। সেই দর থেকে এবার ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। 

বিইআরসির নতুন দর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য গ্রাহকের জন্যও এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে। 

বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফার্নেস অয়েলের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটস রেটের গড়, সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সিআইএফ মূল্য এবং ওই সময়ের মার্কিন ডলারের বিনিময় হার হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। 

প্ল্যাটস রেট আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্ক। আর সিআইএফ মূল্যের মধ্যে পণ্যের দাম, বীমা ও পরিবহন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব উপাদানের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের বাজারে ফার্নেস অয়েলের দামও সমন্বয় করা হচ্ছে।

চলতি বছর ফার্নেস অয়েলের দামে বেশ কয়েক দফা পরিবর্তন হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতি লিটারের দাম ১৫ টাকা ৯০ পয়সা কমিয়ে ৭০ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ১২ এপ্রিল তা ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বেড়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা এবং ১৮ মে আরও ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বেড়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সায় ওঠে। 

এরপর জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে টানা তিন দফায় দাম কমানো হয়। ৩০ জুন দাম কমে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা, ৩০ জুলাই ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা এবং ৬ সেপ্টেম্বর ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সায় নেমে আসে। অক্টোবরের নতুন দর নির্ধারণের ফলে সেই নিম্নমুখী প্রবণতার পর আবারও ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল। 

ফার্নেস অয়েল মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার বয়লার ও বিভিন্ন ভারী শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ফলে এর দাম বাড়লে ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার জ্বালানি ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। 

বিইআরসির এই মূল্য সমন্বয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ২২(খ) ও ৩৪ ধারায় কমিশনকে দেওয়া ক্ষমতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বিইআরসি সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। 

এর আগে ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের হাতে ছিল। ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের গেজেটের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণশুনানির পর কমিশন প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের দাম নির্ধারণ করে। 

নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের ব্যয়ে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের পরিচালন ব্যয়ে পরিবর্তন আসতে পারে।