নতুন উৎপাদন মৌসুম শুরুর আগেই দেশে ১ লাখ ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন—বিসিকের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন লবণ উৎপাদন মৌসুম সাধারণত নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত চলে। দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন এলাকা কক্সবাজারে আবহাওয়ার ওপর উৎপাদন অনেকটাই নির্ভরশীল। গত মৌসুমে উৎপাদন কিছুটা কম হওয়া এবং মৌসুমের শুরুর দিকে আবহাওয়াজনিত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে সম্ভাব্য ঘাটতির আশঙ্কা করা হয়েছে।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশে পরিশোধিত লবণের মোট চাহিদা প্রায় ২১ লাখ টন। এর মধ্যে ভোজ্য লবণের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন এবং শিল্প খাতে প্রয়োজন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টন। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টন এবং লবণ মিলে আরও ১ লাখ ৭৭ হাজার টন মজুত রয়েছে বলে বিসিক জানিয়েছে।
বিসিকের হিসাবে দেশে প্রতি মাসে লবণের চাহিদা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, গত মৌসুমের তুলনামূলক কম উৎপাদন এবং নতুন মৌসুমের শুরুতে সম্ভাব্য ২০ থেকে ২৫ দিনের উৎপাদন ঘাটতির কথা বিবেচনায় নিয়ে আমদানির সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে আমদানির সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লবণচাষিরা। তাদের বক্তব্য, কয়েক মাস লোকসানে লবণ বিক্রির পর মৌসুমের শেষ দিকে দাম কিছুটা বাড়ায় তারা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। এখন আমদানি হলে স্থানীয় বাজারে লবণের দাম কমে গিয়ে চাষিরা আবার লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।
The Daily Star-এর প্রতিবেদনে লবণচাষি প্রতিনিধিদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্থানীয় মজুত দিয়েই কয়েক মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাদের আশঙ্কা, উৎপাদন মৌসুমে আমদানি করা লবণ বাজারে এলে স্থানীয় লবণের দাম কমতে পারে এবং এতে ভবিষ্যতে লবণ উৎপাদনে আগ্রহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, আমদানি করা লবণের মান ও সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রার কারণে কিছু ক্ষেত্রে তা পরিশোধনে তুলনামূলক কম খরচ হতে পারে। তবে আমদানির পরিমাণ ও বরাদ্দের পদ্ধতি নিয়েও শিল্প খাতে প্রশ্ন রয়েছে।
অনুমোদিত ১ লাখ ৫০ হাজার টন লবণের মধ্যে দেশের ২৫১টি নিবন্ধিত ও কার্যকর লবণ মিলকে আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো জানিয়েছে, ২৪৪টি মিলকে ৫৪৩ টন করে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টন এবং সাতটি ভ্যাকুয়াম পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৫০০ টন করে মোট ১৭ হাজার ৫০০ টন আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষের যুক্তি মূলত সম্ভাব্য সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা এবং বাজারে লবণের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। আর চাষিদের উদ্বেগ—আমদানির কারণে স্থানীয় উৎপাদনের ন্যায্য দাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে নতুন মৌসুমে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, সেটিই এখন লবণবাজারের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।




