বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার মোংলা বন্দরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। এক দিনের সরকারি সফরে বন্দর উন্নয়ন, চীনা বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং খুলনায় ক্রীড়া আয়োজনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি বাগেরহাট ও খুলনায় গেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। মোংলায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

মোংলা সফরের প্রধান কর্মসূচি বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। জেটি দুটির সম্মিলিত দৈর্ঘ্য হবে ৩৬৮ মিটার। পাশাপাশি তৈরি করা হবে কনটেইনার সংরক্ষণ ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনার জায়গা এবং আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বন্দরের বছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা তৈরি হবে। টিইইউ হলো ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কনটেইনারের সমপরিমাণ একক, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ হিসাব করতে ব্যবহৃত হয়। নতুন অবকাঠামো চালু হলে আমদানি-রপ্তানি পণ্য ওঠানামা ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)।

এ ছাড়া মোংলা বন্দরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও সিআরসিসির মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কর্মসূচি রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো খাতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার কথা রয়েছে। সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলেরও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

মোংলা বন্দরের উন্নয়নে নতুন জেটি নির্মাণের পাশাপাশি নাব্যতা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরটির সঙ্গে সমুদ্রের সংযোগ রক্ষাকারী পশুর চ্যানেলে নাব্যতা সংকট এবং পর্যাপ্ত আধুনিক সুবিধার অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ চ্যানেলের বিভিন্ন অংশে পাঁচ বছর মেয়াদি ড্রেজিং কার্যক্রম চালাচ্ছে। নতুন অবকাঠামোর সুফল পেতে নিয়মিত নাব্যতা বজায় রাখা, সড়ক যোগাযোগ উন্নত করা এবং বন্দরে পণ্য ও জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মোংলার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে খুলনায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।

এর আগে গত ২২ অক্টোবরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সফর করেন। এবারের সফরে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্প এবং চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরের পণ্য ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়বে। তবে বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নাব্যতা, সড়ক যোগাযোগ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থাও সমান গুরুত্ব পাবে।