রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর এবার শুরু হয়েছে সৌন্দর্যায়নের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরানোর পাশাপাশি এখন লেকের পাড়ের ব্লক ধোয়া, দর্শনার্থীদের জন্য বেঞ্চ স্থাপন এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

উত্তরার ১২ থেকে ১৭ নম্বর সেক্টরজুড়ে বিস্তৃত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই লেকটি একসময় ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে লেকের বড় অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল এবং বাকি অংশও দ্রুত পরিষ্কারের পরিকল্পনা ছিল।

এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন। এর আগেও তিনি উত্তরা এলাকার বিভিন্ন খাল, লেক, ডোবা ও নালা পরিষ্কারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক ধাপে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি লেকের ব্যবহারযোগ্যতা ও সৌন্দর্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাড়ের ব্লক ধোয়া হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে বসার বেঞ্চ বসানোর কাজ চলছে এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, দিয়াবাড়ি লেককে শুধু পরিষ্কার রাখাই নয়, বরং নগরবাসীর জন্য আরও স্বস্তিদায়ক ও সবুজ উন্মুক্ত স্থানে রূপ দেওয়া। এজন্য লেকের দুই পাশেও বনায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। 

এর আগে লেকের দুই পাশের বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে পুনরায় বর্জ্য জমে যাওয়া ঠেকানোর বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। 

দিয়াবাড়ি ও আশপাশের জলাশয় পরিষ্কার রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে দিয়াবাড়ি এলাকার প্রায় সাত কিলোমিটার খাল পরিষ্কারের কর্মসূচিও পরিচালিত হয়। 

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার অংশ হিসেবেও উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে লেক, নালা ও ডোবা পরিষ্কার করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে জমে থাকা কচুরিপানা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সরিয়ে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

দিয়াবাড়ির পরিবেশ উন্নয়নে সরকারি পর্যায়েও আলাদা উদ্যোগ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মে মাসে দিয়াবাড়ি ব্রিজের কাছে লেক রোডসংলগ্ন এলাকায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে বড় আকারের নগর বন তৈরির কাজ শুরু করেছে। এর লক্ষ্য বায়ু, পানি ও মাটিদূষণ কমানোর পাশাপাশি শহরে সবুজায়ন বাড়ানো।

পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যায়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দিয়াবাড়ি লেক নগরবাসীর জন্য আরও ব্যবহারযোগ্য ও স্বস্তিদায়ক উন্মুক্ত জায়গায় পরিণত হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি।