প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বৈশ্বিক শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরাই ছিল সফরের অন্যতম লক্ষ্য। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পেয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এই প্ল্যাটফর্মে দেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থ তুলে ধরা হয়েছে।