প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর ঘিরে ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তাঁকে স্বাগত জানাতে লোকজন অবস্থান নেন।
অবজারভার অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা অংশে দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০৪ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অবস্থান নেন। দাউদকান্দি, চান্দিনা, নিমসার, পদুয়ার বাজার, আলেখারচর ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় বড় জমায়েত দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ অংশেও সকাল থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। শিমরাইল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষমাণ লোকজনের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এর আগে ফেনী জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম করে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির বিষয়ও তাঁর কাছে তুলে ধরার কথা জানানো হয়। এসব দাবির মধ্যে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের বিষয় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে এটিই তাঁর প্রথম সফর।
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরশুরামের খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, প্রথম পর্যায়’ প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়েরও কর্মসূচি রয়েছে।
প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার সরকারি ভবনে স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফুলগাজীতে ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। পুরো জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীতে ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সফরের আগে ফেনীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নেন। তবে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে জনসমাগমের কোনো নির্দিষ্ট মোট সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতির কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম ফেনী সফরে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, সামাজিক কর্মসূচি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোই গুরুত্ব পাচ্ছে।



