বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ পুনরায় চালু করতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে। কর্মীদের বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো খরচ বহন করতে হবে না বলে সরকারি পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
এর আগে ২৮ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। প্রথম দফার কর্মীদের বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কিছু প্রশাসনিক বিষয় এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। গত ৬ অক্টোবর মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার নিয়োগ ব্যবস্থায় বোয়েসেলকে অন্তর্ভুক্ত করার পর পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ১০ হাজার কর্মীর জন্য নিয়োগদাতাদের চাহিদা প্রস্তুত রয়েছে। তবে কর্মী নির্বাচন, মেডিকেল পরীক্ষা ও যাত্রার সময়সূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে সরকার।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে চাকরিপ্রত্যাশীদের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান, মেডিকেল পরীক্ষা কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়া উচিত নয়।
নিয়োগের বিস্তারিত নিয়ম, যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরাও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, কর্মীদের ন্যায্য বেতন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নতুন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

