বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের পাচার করে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। মানবপাচারকারীদের একটি অংশ চাকরির সুযোগের কথা বলে মানুষকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব চক্র সাধারণত ভালো বেতন, সহজ কাজ এবং দ্রুত বিদেশ যাওয়ার সুযোগের কথা বলে তরুণদের আকৃষ্ট করে। পরে তাদের এমন পরিবেশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণার কাজে যুক্ত হতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় কিছু আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র মানবপাচারের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহ করছে। এসব চক্র অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুয়া বিনিয়োগ, সম্পর্কের ফাঁদ, চাকরির অফারসহ নানা ধরনের প্রতারণা পরিচালনা করে।

চাকরির আশায় বিদেশ যেতে আগ্রহী অনেক মানুষ দালালদের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। যথাযথ যাচাই ছাড়া বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অনিবন্ধিত নিয়োগদাতার মাধ্যমে কাজ খোঁজা এ ধরনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ, নিয়োগদাতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

মানবপাচার ও সাইবার অপরাধ এখন অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। একদিকে মানুষকে অবৈধভাবে স্থানান্তর করা হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয় এবং জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রবাসে চাকরির সুযোগ নিতে আগ্রহীদের প্রতারণামূলক প্রস্তাব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক বেতন, দ্রুত ভিসা বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মানবপাচার ও সাইবার প্রতারণার এই নতুন প্রবণতা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।