মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভুয়া কর্মসংস্থান পাস ও নথি তৈরির অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ১৪ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ‘অপস সেরকাপ’ অভিযানে আটক ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও একজন নারীকে ভুয়া e-Temporary Employment Visit Pass বা e-PLKS তৈরির কথিত চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বয়স ২৩ থেকে ৪৮ বছরের মধ্যে।

কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা প্রায় ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত করে কথিত ভুয়া e-PLKS এবং প্রায় ৭০ রিঙ্গিত করে ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন সরবরাহ করত। অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন, ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং সন্দেহভাজন জাল নথি জব্দ করা হয়েছে।

বাকি ১৬ বাংলাদেশিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। একই অভিযানে মিয়ানমারের একজন ও ইন্দোনেশিয়ার দুজন নাগরিককেও আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের ওয়েবসাইটেও বৈধ পাস বা পারমিট ছাড়া অবস্থান এবং ভুয়া বা পরিবর্তিত অভিবাসন নথি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার সময়টি বাংলাদেশের কর্মীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়। দুই দেশ স্বচ্ছ ও নৈতিক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর বিষয়েও একমত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

আগস্টে মালয়েশিয়া আরও ৩১২টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর আগে দেশটির কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থায় ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল অনুমোদিত ছিল।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাই বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, চাকরির চুক্তি, কর্মসংস্থান অনুমতি, ভিসা ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগও বৈধ পাস বা পারমিট ছাড়া দেশটিতে অবস্থান না করার এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সহায়তা না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

মালয়েশিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের কাজের জন্য দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ভিসা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের জন্য নিয়োগকর্তার নির্ধারিত কোটা অনুমোদনও প্রয়োজন।

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও আগে এসেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে; দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল।

সাম্প্রতিক আটকের ঘটনায় এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। তাই বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কোনো এজেন্ট বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কাগজপত্রকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করাই নিরাপদ পদ্ধতি।