গ্যাস সংকট কমাতে আরও দুই কার্গো LNG কিনবে সরকার
দেশে গ্যাসের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন করে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা LNG কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। দুই চালান কিনতে কর ও শুল্কসহ সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
সোমবার, ১৭ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন পায়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে BP Singapore Pte Ltd থেকে LNG কার্গো দুটি কেনা হবে।
প্রথম কার্গোটি ২৩ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে সরবরাহ হওয়ার কথা। প্রতি MMBtu-এর দাম ধরা হয়েছে ২১.৮৮ ডলার। কর ও শুল্কসহ এই চালানের মোট ব্যয় প্রায় ৯২৮ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় কার্গোটি আসবে ৪ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এ চালানে প্রতি MMBtu LNG-এর দাম ২১.৯৮ ডলার এবং মোট ব্যয় হবে প্রায় ৯২৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দুই কার্গোর জন্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
নতুন এই কেনাকাটা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি করা LNG গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত LNG সংগ্রহে যেতে হয়েছে সরকারকে।
এর আগে চলতি আগস্টে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আরও পাঁচটি অতিরিক্ত LNG কার্গো আনার কথা জানিয়েছিল পেট্রোবাংলা। ওই পাঁচ কার্গোতে মোট প্রায় ১৬ মিলিয়ন MMBtu LNG থাকার কথা।
দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ চললেও তাৎক্ষণিক ঘাটতি মেটাতে LNG-ই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান ভরসা। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে LNG কেনায় সরকারের জ্বালানি ব্যয় ও ভর্তুকির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে LNG সংগ্রহ করতে হয়েছে।
নতুন দুই কার্গো হাতে এলে আগস্টের শেষ এবং সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সংকট কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—দুটোকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা।



