৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই GPA-5—ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

একটি স্কুল, ৩৮২ জন SSC পরীক্ষার্থী—আর ফলাফলে সবারই GPA-5। নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের এমন শতভাগ সাফল্য প্রথমে প্রশংসা কুড়ালেও এখন সেই ফল নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

২০২৬ সালের SSC পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ৩৮২ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই GPA-5 পেয়েছে। কিন্তু এত বড় সংখ্যায় শতভাগ GPA-5 পাওয়ার পেছনে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ‘নিয়মবহির্ভূত কৌশল’ নিয়েছিল কি না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

রোববার, ১৬ আগস্ট, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. মো. মাসুদ রানা খান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই শোকজ করা হয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

শুধু ব্যাখ্যাই নয়, স্কুলটির কাছ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির তথ্য, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তালিকা, নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এবং SSC পরীক্ষার ফরম পূরণকারীদের বিস্তারিত নথিও চেয়েছে বোর্ড।

বিতর্কের বড় জায়গাটি পরীক্ষার্থীর সংখ্যায়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে স্কুলটিতে নিবন্ধিত ছিল ৬০১ জন শিক্ষার্থী। দুই বছর পর SSC পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮২ জন। সেই হিসাবে নিবন্ধিতদের মধ্যে ২১৯ জন শেষ পর্যন্ত SSC পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

অন্যদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছর ৪৮৩ জন নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৩৮২ জন চূড়ান্ত SSC পরীক্ষায় বসে। বাকি ১০১ জন টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তার দাবি, পুরো প্রক্রিয়াই বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।

এখানেই প্রশ্ন উঠেছে—নির্বাচনী পরীক্ষার মাধ্যমে দুর্বল বা তুলনামূলক কম ফল করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বাদ দিয়ে কেবল সম্ভাব্য GPA-5 পাওয়া শিক্ষার্থীদেরই SSC পরীক্ষায় বসানো হয়েছিল কি না।

কিছু অভিভাবকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ও মূল্যায়ন এমনভাবে করা হয় যাতে কেবল খুব ভালো ফল করার সম্ভাবনা থাকা শিক্ষার্থীরাই পাস করতে পারে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়; বোর্ডের শোকজ ও নথি যাচাইয়ের পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

এটি স্কুলটির প্রথম শতভাগ GPA-5-এর ফলও নয়। ২০২৫ সালের SSC পরীক্ষায়ও প্রতিষ্ঠানটির ৩২০ পরীক্ষার্থীর সবাই GPA-5 পেয়েছিল। টানা দুই বছর এমন ফল পাওয়ায় চলতি বছরের পরীক্ষার্থী বাছাই ও ফরম পূরণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি না পেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি এবং স্কুলটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়নি।

ফলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু ৩৮২টি GPA-5 নয়। বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফল মূল্যায়নে শুধু পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফল দেখা হবে, নাকি নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন থেকে শেষ পর্যন্ত কতজন শিক্ষার্থী SSC পরীক্ষায় পৌঁছাতে পারল, সেই হিসাবও সামনে আনা প্রয়োজন?