ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারে ফের পানির নিচে চট্টগ্রাম, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ
কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি আর কর্ণফুলী নদীর জোয়ারে আবারও থমকে গেছে চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জীবন। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকা—বিস্তীর্ণ জায়গায় পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমরসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে নগরবাসীকে।
রোববার থেকে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও সোমবার ভোর থেকে তা ভারী রূপ নেয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা—মাত্র তিন ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৮১ মিলিমিটার।
বৃষ্টির সঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে জোয়ার। কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার থাকায় নগরের খাল ও নালা দিয়ে জমে থাকা পানি স্বাভাবিক গতিতে নদীতে নামতে পারেনি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই নিচু এলাকাগুলোতে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায় আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, আগ্রাবাদ হাজীপাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, হালিশহর, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, চকবাজার, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, পাঠানটুলী, প্রবর্তক মোড়, শুলকবহর, নালাপাড়া, জামালখান, তিনপুলের মাথা ও মেহেদীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায়।
কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশের কিছু আবাসিক সড়কে পানি হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত ওঠে। কয়েকটি ভবনের নিচতলা ও পার্কিংয়েও পানি ঢুকে পড়ে। সড়কে পানি বাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের চলাচল কমে যায়। অনেক জায়গায় রিকশাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা, আর সেই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগও ওঠে।
সকালের ব্যস্ত সময়ে জলাবদ্ধতা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলে এবং অনেক জায়গায় পথচারীদের পানি মাড়িয়ে চলতে দেখা যায়।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নতুন সমস্যা নয়। নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে কয়েক হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প চললেও ভারী বৃষ্টি ও জোয়ার একসঙ্গে হলেই এখনও অনেক এলাকা দ্রুত পানির নিচে চলে যাচ্ছে। চলমান খাল উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের কিছু কাজ অসমাপ্ত থাকাকেও এবারের পরিস্থিতির একটি কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। ফলে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জলাবদ্ধতার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
প্রতি বর্ষায় একই দৃশ্য ফিরে আসায় নগরবাসীর প্রশ্নও পুরোনো—হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলার পরও ভারী বৃষ্টি আর জোয়ার এলেই কেন পানির নিচে চলে যায় চট্টগ্রামের সড়ক?






